Thursday, December 4, 2008

কিছু জরুরী ঠিকানা এবং

অপেনসোর্স পারে আমাদের সুবিশাল পথ উন্মোচন করতে | প্রিন্ট |
লিখেছেন ড. মশিউর রহমান



Saturday, 21 July 2007



বেশ কয়েকবছর ধরেই দেখছি, যখনই বাংলাদেশের আইটি নিয়ে কথা হয়, তখনই কথায় কথায় সবাই বলে যে আমাদের দেশের ছেলেরা কম্পিউটার প্রতিযোগীতায় ভাল করছে। অথচ আন্তর্জাতিক বিশ্ব বাজারে আমাদের প্রতিযোগীতায় নামতে হলে আমাদেরকে বিশ্বের মানের সাথে যুদ্ধ করতে হবে ও তাদের সাথে প্রতিযোগীতা করতে হবে। কোন কম্পিউটার প্রতিযোগীতায় ভাল করা এক কথা আর বিজনেসে সার্থক হওয়া আরেক কথা। আজকাল বিভিন্ন বুদ্ধিজীবি, মন্ত্রী ও আমলারা প্রায়শ বলে বেড়াচ্ছেন আমাদের আইটি সেক্টরের ভবিষ্যত খুবই উজ্জ্বল। কত কোটি টাকার রফতানী হবে তাই নিয়ে হিসেব কষেন তারা। এ দেখি হাসের ডিমের সেই গল্পটার মত। মনে মনে শুধু লাভের হিসাব আর কিছুদূর যাবার পরে ডিমগুলিই ভেঙে সব বরবাস্ত! আমরাও একই রকম ভূল হিসাব কষছি। এইকথা শুনছি অনেক বছর ধরেই, আর আশার কথা শুনাবেন না, দয়া করে সত্যি চিত্রটা তুলে ধরুন।

আমাদের দেশের মেধাবী ছেলেরা যে সমস্ত প্রতিযোগীতায় জিতছে তা নেহাতই এমেচার জাতীয় প্রতিযোগীতা। বিশ্বে খুব কম লোকেই সেগুলিকে চিনে। কি আহত হলেন এই কথা শুনে? বিদেশী কোন বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করে দেখুন। সিলিকন ভ্যালিতে ওই প্রতিযোগিতার কথা কেউ জানেননা। কম্পিউটার জগতের বাজারে যদি দেশের পরিচিতি বাড়াতে চান তবে প্রতিযোগীতায় নয় বরং ভাল সফট তৈরী করে, সুন্দর কোন বাণিজ্যিক আইডিয়া নিয়ে আসতে হবে। আমি আমাদের মেধাবী ছেলেদের কৃতিত্বকে ছোট করে দেখছিনা, তবে বলতে চাচ্ছি বিশ্বের বাজারে নামতে হলে আমাদেরকে আরো প্রফেশনাল হতে হবে।

আর আমাদের দেশের কম্পিউটার কম্পানিগুলি, যারা কিছু কিছু সফটওয়ার তৈরী করছে তারা মূলত অভ্যান্তরীন বাজরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিছুদিন পরে তারা হয়তো একটা ওয়েবসাইট তৈরী করল, তারপরেই তারা ভেবে বসল আইটি-তে খুব বড় কিছু করে ফেলল। তারপরে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় সেই ওয়েবসাইটও বন্ধ হয়ে যায়।

কোন সফট তৈরী করা কিংবা পোগ্রামের কোন কোড লিখাকেই শুধু মাত্র আইটি সেক্টর বলে অনেকেই ভুল করেন। আসলে আইটির ব্যবসার সাথে কোড লিখার পোগ্রামারের পাশাপাশিপ্রোজেক্ট ম্যানেজার, বিপনন, অর্থ, ব্যাবস্থাপনা এইগুলি জড়িত। সবগুলির এক্সপার্ট দরকার। এইক্ষেত্রে আমার পরিচিত এক প্রতিষ্ঠান বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশে প্রোজেক্ট ম্যানেজার খুঁজছে কিন্তু তারা তেমন কোন যোগ্যপ্রার্থী পাচ্ছেননা। এইবার বুঝুন আমাদের অবস্থাটা।

যে কথা বলছিলাম, আমরা কি দেশের ছোট গন্ডি থেকে বের হয়ে আরো বড় কিছু করতে পারিনা? অবশ্যই পারি। আমাদের যে বেসমেন্ট আছে তাকে পক্ত করতে হবে। পক্ত না করেই আগেই প্রচারণা নামলে যা হবার তা হয়। মনে করা যাক, একজন শিল্পী, যার কিছু প্রতিভা আছে। কিন্তু তাকে প্রোফেশনালভাবে কাজ করতে চাইলে, তাকে অনেক ঘষামাজা করতে হয়। তা না করেই যদি প্রথমেই প্রচারণার জন্য টিভি, সিনেমায় নেমে পড়ে, তখন দেখা যায় তা দীর্ঘ যাত্রায় তিনি টিকেননা। দেখুন যে সমস্ত শিল্পীরা এখনও প্রোফেশনালভাবে সমাদৃত, তারা কিন্তু নিজেদের ঘষেমেজে অনেক কষ্টে নিজেদের তৈরী করেছে। আমি আইটির ক্ষেত্রেও একই কথা বলব। আমাদের মধ্যে হয়তো প্রতিভা আছে, আমাদের ছেলেমেয়েরা বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় ভাল করছে, তবে তাকে আরো ঘষেমেজে বিশ্ববাজারে আমাদের টিকে থাকার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। খামাখা নাম কামাবার জন্য আইটি নয়।

ওয়েবসাইটকে আমরা বিজ্ঞাপনের বিকল্প হিসাবেই দেখি, সেখানে কম্পানিগুলি কি ধরনের কাজ করছে, কি কি বিষয়ের এক্সপার্ট তাই খুটিনাটি তথ্য উল্লেখ থাকা প্রয়োজন। অথচ বাংলাদেশে আইটি সংক্রান্ত কম্পানিগুলি কোন তথ্য উপস্থাপন না করে ভাববাচ্যে অনেক কথা লিখে। যেমন হয়ত লিখা আছে, মাল্টিমিডিয়া এক্সপার্ট। এটি দিয়ে অনেক কিছুই বোঝাতে পারে। আর মাল্টিমিডিয়া ক্ষেত্রটিও বিশাল। মাল্টিমিডিয়ার কি ধরনের কাজ তারা করে? কি ধরনের সফটওয়ার দিয়ে তৈরী করে, কতজন এক্সপার্ট সেই কম্পানিতে আছে? কেও বিয়ের ভিডিও এডিট করেও মাল্টিমিডিয়া বলতে পারে, আবার কার্টুন কিংবা এনিমেশন তৈরী করেও বলতে পারে তা মাল্টিমিডিয়া। কি কি কাজ তারা করছে তা করেছে তার উল্লেখ থাকা প্রয়োজন। তা যতই সামান্য হোকনা কেন? তবেই যারা কাজ করাতে চাইবে তারা এগিয়ে আসবে। যেমন, আমার শহরে খুব ছোট একটা কম্পানি আছে, তারা শুধু মাত্র লগো তৈরী করে। তাদের ওয়েবসাইট দেখলে দেখতে পাবেন, তারা কি কি লগো তৈরী করেছে, কত দিন সময় লাগে লগো তৈরী করতে এবং তার জন্য কিরকম খরচ হয় তার খুটি নাটি সমস্ত তথ্যই আছে। সেই ওয়েবসাইটটি দেখে, যারা লগো তৈরী করে নিতে চান খুব স্বাভাবিক ভাবেই তাদের সাথে যোগাযোগ করবেন। অথচ বাংলাদেশ হলে লিখা থাকবে, আমরা অনেক প্রতিষ্ঠানের লগো তৈরী করি। কত খরচ? কত দিন লাগবে কি কাজ করেছে- তা কখনই উল্লেখ করবেনা। হোক তা দুটি/তিনটি কাজ। যারা কাজ করিয়ে নিতে চাইবে, তারা তাদের উদাহরণ দেখেই বুঝতে পারবে কেমন প্রোফেশনাল তারা।

এই প্রসঙ্গে একটি অভিজ্ঞতার কথা আপনাদের বলি। কিছুদিন আগে আমরা একটা ওয়েবসাইট তৈরী করার কাজ পেয়েছিলাম। ভাবছিলাম বাংলাদেশের কোন কম্পানি দিয়ে কাজটি করাব। আমাদের দেশের ছেলেরা কাজ পাবে। ইন্টারনেটে ঘাটা ঘাটি করে অনেক কম্পানি পেলাম, যেখানে সবাই বলছে, তারা ওয়েবসাইট তৈরীতে এক্সপার্ট এবং অনেক বড় বড় কম্পানির কাজ তারা করেছে? এই "অনেক" শব্দটির মানে কিন্তু অনেককিছুই হতে পারে। দুটি কিংবা তার বেশী হলেও অনেক বলা যায়। সংখ্যার উল্লেখ নেই কেন? উদাহরণ থাকা প্রয়োজন। কয়েকজনকে ইমেইল দিলাম। বুঝতেই পারছেন, কোন উত্তর নেই। আর যাদের সাথে যোগাযোগ হল, তাদের কথা বার্তা শুনে বুঝতেই পারলাম তারা কতটুকু প্রোফেশনাল। তারপরে প্রবাসের এক জুনিয়রকে দিয়ে কাজটি করিয়ে নিলাম।

এই থেকে উদ্ধার পাবারা উপায় কি? আসলে যেটি বল্লাম তা হল, আমাদের আরো ঘষে মেজে প্রোফেশনাল হতে হবে? যারা প্রবাসে আছেন, বিভিন্ন আইটি এর কম্পানিতে কাজ করছেন, তারা এই ক্ষেত্রে গাইড দেবার কাজ করতে পারেন। কেননা তারা জানেন বিশ্ববাজারে টিকে থাকার জন্য আমাদের কি করতে হবে। আর আমাদের ছেলে মেয়েরা আইটি এর প্রযুক্তিগত দিকগুলি যতটা শিখছে, ম্যানেজমেন্টের জিনিসগুলি শিখছেনা। যেমন প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট কিভাবে করতে হয়, প্লানিং কিভাবে করতে হয়, এই জিনিসগুলি আমাদের ছেলেদের শিখা খুবই প্রয়োজন।

যারা উঠতি কিশোর/কিশোরী বাংলাদেশে বসে আছে হাতের কাছে ভাল রিসোর্স পাচ্ছেননা। কিংবা দিকনিদর্শনা পাচ্ছেননা। তারা দুটি কাজ করতে পারেন।

১. প্রবাসের বেশি কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা আপনাদের গাইড করবার জন্য হাত বাড়িয়ে আছে। তাদের সাথে যোগাযোগ করে বুদ্ধি পরামর্শ নিতে পারেন। কিভাবে বিশ্ববাজারের কাজ পাবেন - সেই সমন্ধে তারা সাহায্য করতে পারেন। এমন কিছু সংস্থা হল বাংলা আইটি http://www.banglait.org । বাংলাআইটি উদারহস্তে হাত বাড়িয়ে রয়েছে পরামর্শ দেবার জন্য। এছাড়ারও রয়েছে Bangladesh Association of Software & Information Services (BASIS) http://www.basis.org.bd/ । আর ইমেইলে পরামর্শের জন্য কিছু মেইলিংলিস্টে যোগ দেবার পরামর্শ দেব। এসব মেইলিংলিষ্টে অনেক প্রোজেক্টের জন্য লোক খোঁজা হয়। এছাড়াও অনেক রিসোর্স পাবেন এই মেইলিংলিষ্টগুলিতে, যা আপনারা জীবনকে ঘুরিয়ে দিতে পারে। এমন কিছু মেইলিংলিস্ট নিম্নে দেয়া হল। এইগুলিতে যোগদেবার জন্য পাশের ইমেইলগুলিতে ইমেইল দিন:

ICT of Bangladesh : ict_of_bangladesh-subscribe@yahoogroups.comস্প্যামবটের হাত থেকে এই ইমেল ঠিকানা সুরক্ষিত আছে। পড়ার জন্যে জাভাস্ক্রিপ্ট অন করুন।

Banglaict : bangla_ict-subscribe@yahoogroups.comস্প্যামবটের হাত থেকে এই ইমেল ঠিকানা সুরক্ষিত আছে। পড়ার জন্যে জাভাস্ক্রিপ্ট অন করুন।

২. আরেকটি সহজ উপায় হল ওপেনসোর্সের কোন প্রোজেক্টে অংশ নিয়ে কিভাবে প্রোজেক্ট হয়, কিভাবে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট হয় তা শিখতে পারেন।

অপেন সোর্স এর ক্ষেত্রে সব ধরনের রিসোর্স, ডকুমেন্ট ও পোগ্রামিং এর কোড উন্মুক্ত ও সহজেই পাওয়া যায়। তাই এই ভাবে শিখার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। আপনি হয়তো সরাসরি কোড লিখতে পারছেন না, চিন্তা করবেননা। অংশ নিয়ে পর্যবেক্ষন করে দেখুন তারা কিভাবে কাজ করে। অপেনসোর্সের ক্ষেত্রে আরেকটি সুবিধা হল, আপনার যদি ভাল কোন আইডিয়া থাকে, সেটা দিয়ে নিজেই শুরু করতে পারেন কোন প্রোজেস্ট। কয়েকদিনের মধ্যেই দেখবেন, সারা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক বাঘা বাঘা পোগ্রামার-রা আপনার প্রোজেস্টে অংশ নিচ্ছেন। এইভাবে অপেনসোর্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের নাম ছড়াতে পারেন। আইটি এর জগতে কাজ পাবার জন্য, সবাই জানতে চাইবে আপনি কি করেছেন। "আপনি কি করতে পারবেন"- তা নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা নেই। আপনার আগের কাজগুলি দিয়েই আপনাকে নতুন কাজ যোগাড় করে নিতে হবে। অপেনসোর্সে যোগ দেবার জন্য নিম্নের সাইটগুলি বেশ তথ্যবহুল:

http://www.opensource.org/

http://sourceforge.net/

http://en.wikipedia.org/wiki/Open_source

http://developer.apple.com/opensource/index.html

http://code.google.com/

http://www.ostg.com/

http://www.intel.com/technology/computing/opencv/index.htm

http://opensource.hp.com/index.php

http://www.iosn.net/

এইক্ষেত্রে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, অপেনসোর্সকে জনপ্রিয় করার জন্য সবথেকে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ অপেনসোর্স নেটওয়ার্ক, যাদের ওয়েবসাইট হল http://www.bdosn.org/

তাই বাংলাদেশের উদায়মান কিশোর/কিশোরী যারা তথ্যপ্রযুক্তিতে কাজ করতে চান তাদের আহবান জানাই, চলুন আমরা আপেনসোর্স প্রোজেক্টে অংশ নিয়ে নিজেদের আরো প্রোফেশনাল ভাবে গড়ে তুলি। একজন বাংলাদেশী হিসাবে কোন অপেনসোর্স প্রোজেক্টে অংশ নিয়ে দেশ বিদেশে বাংলাদেশের সুনাম আরো বাড়াতে পারবেন। যখনই কোন প্রোজেক্টে আপনি ভাল কাজ করবেন তখন দেশ-বিদেশ থেকে কাজের আহবান পাবেন। প্রশ্ন তুলতে পারেন বিনামূল্যে কাজ করে কি পাবেন? পাবেন "অভিজ্ঞতা" যা বাংলাদেশের সল্প পরিসরে পাবেননা। অর্থ দিয়ে যদি কোচিং সেন্টারগুলিতে শিখতে পারেন তবে বিনামূল্যে এইভাবে কাজ শিখার সুযোগ হাতছাড়া করবেন কেন?

বিশ্ব বাজারে টিকে থাকার জন্য আমাদের অনেকদূর পথ চলতে হবে। অনেক কাজ করতে হবে। কোন কাজ না করেই, ফাকা মাঠে বুলি ছড়িয়ে হয়তো রাজনীতিবিদ হওয়া যাবে। আইটি তে কোন কাজ পাওয়া যাবেনা। আমরা বিশ্বাস সামনে সুন্দর আইডিয়া নিয়ে বাংলাদেশের ছেলে মেয়েরা এগিয়ে আসবে।

- ৯ই ফেব্রুয়ারী ২০০৭





Saturday, February 2, 2008

চিঠি লেখার মত অনন্ত সময় সত্বেও গত এক বছরে এক লাইন লেখা কোথাও লেখা হয়ে ওঠেনি। মাঝে মাঝে কিছু চেষ্টা করেছি বটে কিন্তু সে চেষ্টর ফলগুলি westege box'র প্রাণের সঞ্চার করেছে মাত্র।
এ লেখার ভাগ্যটাও আমা পুর্বমত অজানা।
কেমন আছিস্? নিতান্ত অপ্রয়োজনীয় এ প্রশ্নটা সবাই করে তাই আমিও করলাম। প্রশ্নটা পছন্দনীয় নয় এজন্য যে, প্রশ্নটা মানুষকে অসত্যের আশ্রয় নিতে বাধ্য করে। কেননা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে নেতিবাচক হওয়া সত্বেও মানুষ ইতিবাচক উত্তরটাই দিতে চায়। কারণ আরো আছে,- সবটা বললে লখাটা প্রবন্ধ হয়ে যাবে। তাই ক্ষান্ত দিলাম।
ফরিদ আমার অনেক ভালবাসা রইলো তোর জন্য, নাহিয়ানের জন্য, পান্নার জন্য। এবং তোর বৃত্তে আবদ্ধ নাম জানা-না জানা

Sunday, January 20, 2008

বন্ধু আমার মন ভাল নেই, তোমার কি মন ভাল?

বন্ধু আমার মন ভাল নেই, তোমার কি মন ভাল?

বন্ধু তোমার চোখের মাঝে চিন্তা খেলা করে

বন্ধু আমার চোখের তারা অশ্রু জলে ভাসে
বন্ধু তোমার কপাল জুড়ে চিন্তালোকের ছায়া,
বন্ধু তোমার নাকের ভাঁজে চিন্তা নামের কায়া।
বন্ধু আমার মন ভাল নেই, তোমার কি মন ভাল?

বন্ধু তুমি একটু হেসো, একটু কথা বলো।
বন্ধু আমার বন্ধু তুমি বন্ধু মোরা (দুজন)কজন,
তবুও বন্ধু মন হলো না আপন।
বন্ধু আমার বুকের মাঝে বিসর্জনের ব্যথা,

বন্ধু তুমি ওমন করে করে (থেকো)যেও না একা,
বন্ধু এসো স্বপ্ন আকি চারটা দেয়াল জুড়ে,
বন্ধু এসো আকাশ দেখি পুরোটা চোখ খুলে
বন্ধু এসো জলে ভাসি বুক ভাসানোর সুখে।
বন্ধু আমার বন্ধু তুমি বন্ধু মোরা (দুজন)কজন,
তবুও বন্ধু ভাসি নাকো, আঁকি নাকো স্বপন।

বন্ধু আমার বন্ধু তুমি বন্ধু মোরা (দুজন)কজন,
বন্ধু কোথায় বন-বাদাড়ে পাখ-পাখালির কূজন?

Thursday, January 17, 2008

হ্যালো- আশা


কাল রাতে
খুব তোমাকে মনে পড়েছিল।
মধ্যরাতের র্নিঘুম বিছানায়
তুমিও সঙ্গী ছিলে আমার কল্পনার
আর-
আধ বোজা অন্ধকার চোখে
খুব ইচ্ছে করছিলো তোমাকে

আশা!
ইচ্ছে করেছিলো-
ছিনাল আঁধারের নির্মোক খসিয়ে
বাজিয়ে দিই অশীল দস্যুর মত
তোমার নিস্তব্দ সেলের রিংগার।

যদি
তোমার সাথে প্রেম থাকতো
আর প্রেমের অধিকার নিয়ে
পৌরুষদীপ্ত হাতে রাতের যৌবন
নিঃশেষে ছিনিয়ে নিয়ে এক লহমায়
শিশির কণার মত ঢেলে দিতাম

হ্যালো-
আশা!
জানো কোথায়?
তোমার ঘুম জড়ানো তনুর উত্তাপে।
(তোমার ঘুম জড়ানো তপ্ত শরীরে)

আমার ভাবনায় "মানুষ"

মানুষ মানুষের প্রতি মুগ্ধ হওয়ার নানা কারণ থাকে। আবার দুরে থাকারও বিষয় থাকে। তবে দুরে থাকার জন্য কোনো বিশেষণের দরকার পড়ে না। কিন্তু কাছে পৌঁছানোর জন্য অবশ্যই বিভিন্ন গুণাবলি কাজ করে। বিশেষ গুণ যখন কোনো মানুষের মধ্যে জড়ো হয় তখন সে মানুষের প্রতি অন্য মানুষেরা নুয়ে পড়ে। নুয়ে পড়ে তার গুণের কাছে। তার বিশেষ অবদানের কাছে।

******************************************
একজন মানুষের ভেতর-বাইর একসাথে অনুভবের আওতায় আনা যায় না। অনেক মানুষ আছেন যাদের বাইরের অবয়ব দারুণ নান্দনিক। কিন্তু ভেতরটা অসম্ভব দুর্গন্ধযুক্ত। আবার কারো কারো বাইরে সুষমা না থাকলেও ভেতরটা অবাক হওয়ার মতো সুন্দর-সরল। একইভাবে ব্যক্তিগত অনেক দুঃখ-বেদনা থাকে মানুষের জীবনে যা অন্য কারো সাথে শেয়ার করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। অন্যকে অংশীদার করা যায় না।
অন্তরের গভীরে জেগে থাকা দুঃখ-বোধ অনেক সময় বাইরে থেকে অনুভব করা গেলেও জিজ্ঞাসা করে জবাব পাওয়া যায় না। কারন সব জিজ্ঞাসার জবাব হয় না।

******************************************
মানুষ যতটা জ্ঞানের গভীরে প্রবেশ করবে ততটা মৌন হয়ে উঠবে। অনুভুতি তীব্র হবে। দেখার দৃষ্টি হয়ে উঠবে অতি সুক্ষ্ণ। যখন কোনো মানুষের ভেতর অনুভুতি তীব্র হবে তার বেদনাবোধও দ্বিগুন হয়ে যায়। সমাজের রাষ্ট্রের নানা দুঃখ-দুর্দাশা, মানুষের সমস্যা ও দুঃখ-বেদনা সহসা প্রবেশ করে এসব মানুষের মনে। যে কারণে অনুভুতি-প্রাণ মানুষের মনে দুঃখবোধ প্রবল হয়ে ওঠে। এ ছাড়া সৃষ্টিশীল মানুষরা স্বভাবত অনুভুতিপ্রবণ হয়ে উঠেন। ফলে সমাজ ও সামাজিক জীবনে টানাপোড়নের জটাজাল সৃষ্টিশীল মানুষদের জড়িয়ে নেয়।

Wednesday, January 16, 2008

** আমি চাই না তোমাকে ঝাঁকাতে কিংবা বাঁকাতে **

আমি চাই না তোমাকে ঝাঁকাতে কিংবা বাঁকাতে
কাঁচাতে কিংবা পাকাতে কিংবা ঠকাতে,
চাই না তোমায় ভীষণ কিছু শেখাতে
চাই না তোমাকে এক বিন্দু বাড়াতে কিংবা কমাতে,
তোমার হৃদয় গলাতে কিংবা জমাতে
তুমি যেমন আছো তেমনই থাকো
হবে না তোমাকে কোনমতেই আমার মত হতে,
আমি শুধু চাই----
হৃদয়ে হৃদয়, হাতে রেখে হাত
চোখে চোখে দু'জন তাকাতে।
আমি চাই না তোমায় হাসাতে অথবা কাঁদাতে
চাই না তোমাকে অলীক স্বপ্নে ভাসাতে
কখনো চাই না প্রণয় রাগে রাগাতে
অথবা প্রণয়ে, সাহসে বা ভয়ে-
কামনার আগুনে জাগাতে----
আমি শুধু চাই----
তুমি যেথা যাও সহযাত্রী হতে
পারবে কি সখি আমাকে তোমার
চলার সাথী বানাতে?
পারবে কি তুমি আমার বন্ধু হতে?
অথবা আমাকে তোমার বন্ধু বানাতে?

একটি চিঠি

দাদা কেমন আছেন। আমি আপনার অপেক্ষায় আর কতদিন কাটাবো। এদিকে আমার উপর প্রচণ্ড চাপ আসিতেছে বিয়ে করার জন্য। আপনার প্রচন্দের সেই পাত্রটি তো আমাকে আর পত্র লেখে নাই। আপনার সাথে কি তার যোগাযোগ আছে? যদি থাকে আমাকে পত্র দিতে বলবেন। আপনার বর্তমান শারিরীক অবস্থা আমাকে জানাবেন। বুকের ব্যথাটা কি এখনো আপনাকে আগের মত কাহিল করে তোলে? মনটা কি এখনো তারুণ্যের আকাশে ঘুড়ি উড়াতে চায়? অথবা চায় চৈতালী উষ্ঞতায় টইটুম্বর তটনীর খরধারা জলে ডুবে ডুবে নাইতে? জানেন দাদা, শরতের আকাশে সেদিন চাঁদ উঠেছিলো অন্য রকম এক জোছনার আভায়। সে রাতে আমার দূরন্ত ইচ্ছারা.......................... না থাক। ইচ্ছাদের কথা যতটা গোপন রাখা যায় ততটা কল্যাণ বয়ে আনে সমাজ সংসারের জন্য। এটা আমার বাবার কথা। দুঃখটা কোথায় জানেন- সমাজটা সবসময় বাবাদের মনের মূল্যই দিয়ে গেলো কিন্তু আমাদের মনের খবর নিলোনা কখনও। আমার মত অসংখ্য জনের মনের ইচ্ছা অনিচ্ছার কোন মূল্যই নাই এ সমাজের কাছে। ভাবটা এমন আমরা যেন এ সমাজের কেউ ই নই।

Sunday, January 6, 2008

অনুপ্রাস সম্বলিত একটি বিশেষ লেখা

অমাবশ্যার অন্ধকারে অসীম, অসহ্য অত্যাচার অগ্রাহ্য করিয়া নীলিমার নির্মল নীল নয়ন যুগলের আকর্ষণে আকুলভাবে আকৃষ্ট হইয়া আর একবার আসিয়া দরজার কড়ায় করাঘাত করিল। নীলিমা দরজা খুলিয়া নীল নয়ন যুগল তুলিয়া ব্যঘ্র তাড়িত সন্ত্রস্ত হরিণীর মত অসীমকে দেখিয়া অত্যাধিক অবাক হইয়া চাহিয়া রইল। এমনি অবস্থায় তাকে দেখিয়া এক্ষনে তাহার বুকের সমস্ত দরদ উদ্বেলিত হইয়া একত্রে কণ্ঠের বাহির হইতে চাহিলে কণ্ঠ পথের অক্ষমতায় অতিষ্ঠ হইয়া বাষ্পরুদ্ধ কান্নায় ভাঙ্গিয়া পড়িল। অন্ধকার নিশির ঝড়ো-বৃষ্টির অত্যাচারে অত্যাচারিত অসীম অমনি অনড় ভাবে অঙ্কিত চিত্রের ন্যায় ঠায় দাঁড়াইয়া রহিল। কি যেন কহিতে চাহিয়া গভীর আবেগে উদ্বলিত উত্কণ্ঠায় ঠোঁট দুরি নড়িল মাত্র, মুখ ফুটিয়া কিছুই কহিতে পারিল না।
মনের মণিকোঠায় মর্মের যাতনাগুলি মহা বিক্ষোভে জ্বলিয়া পুড়িয়া প্রকাশের পথ না পাইয়া আঁখি বাহিয়া নীরব নীর হইয়া ঝরিতে লাগিল। অমনি ভাবে অনেক লগ্ন অতিবাহিত করিয়া দুই হাত বাড়াইয়া নীলিমা আশ্চর্য শান্ত অথচ করুন কণ্ঠে কহিল,- "অসীম আবার কেন আসিল?"
প্রতিত্তোরে অসীম ততোধিক শান্ত কিন্তু দৃঢ় কম্পিত কণ্ঠে কহিল, - "তোমার নয়ন আমায় ফিরিয়া ডাকিল, কিছুতেই যেতে দিল না যে।" জলে থৈ থৈ নয়ন দুটি নীলিমার নয়ন পানে রাখিয়া পুনরায় প্রশ্ন করিল,- "তুমিই বলো, যেতে না দিলে যাওয়া যায় কি?"
যাওয়া যে যায় না এই কথা নীলিমাও জানে। সে-ও কি চাহিয়াছিলো এমনি অকালে অসীমকে বিদায় জানাইতে। মননের মানুষ এমনটি কখনও মানিতে পারে না। তবু সমাজ নামের বিধাতার নিষ্ঠুর নিপিড়নে নিয়মের বাহুল্য আবরনে আবৃত হইয়া তাকে হৃদয় কাননে সদ্য প্রষ্ফুটিত পুষ্প কুঁড়িতে হুল ফুটাইতে হইল।
অসীম কহিল,-"নীলিমা, আমার নিয়তি আমাকে যে দন্ডই দিবে আমি তাহা নির্দিধায় গ্রহণ করিবো, তবু তুমি আমাকে তোমাকে ছেড়ে যেতে বলো না।" তাহার মুখের করুন কথা যতনা দরদের দাবিদার আঁখির চাহনি এতই করুন যে পাষাণও সেখানে দৃষ্টি পড়িবা মাত্র গলিয়া যাইতে বাধ্য। নীলিমাও সমস্ত বাধা, সমস্ত প্রতরোধের সর্ব প্রকার ভয় মুহুর্তে নির্দ্বিধায় ভুলিয়া গিয়া অসীমকে বুকে জড়াইয়া ঘরে তুলিয়া লইল। বাহিরে ঝড় আগের চেয়ে শতগুন প্রতাপে ধরনী কাঁপাইয়া বৃক্ষ রাজি ভাঙ্গিয়া-চুরিয়া ছিন্ন-ভিন্ন করিয়া চলিয়াছে। নীলিমার বুকের মাঝে বেদনার ঝড় থামিল বটে কিন্তু তাহার পান্ডুর বদনে সমস্ত কলাগুলি তাহার জন্য যে পূর্বের চেয়ে শতগুন শক্তিধর সিডর অপেক্ষমান তাহারই পূর্বাভাস দিতেছে। অসীমকে খাটিয়ার কিনারে বসাইয়া নিজের ওড়না দিয়া ভিজা চুল মুছিঁয়া দিতে দিতে নীলিমা কহিল,- "অসীম, অযথা অত অত্যাচার, অপমান আর অপবাদের অমানিশা অতিক্রম করিয়া আমার কাছে কেন আসো? না আসিলেই পারিতে।" কথাগুলি শুনিয়া তাহার থৈ থৈ নয়ন হইতে জল ধারা ঝরিয়া পড়িল। জল ছল্ ছল্ নয়নে সে বলিল,- " নীলিমা, অপমানের অমানিশা কি তোমাকে হারানোর চাইতে অধিক কষ্টকর? আমার অন্তর জানে, জগতের যত যন্ত্রণা আমার কাছে অনেক তুচ্ছ।"
অনেক্ষণ নিরব থাকিয়া পূনঃ সে কহিল-
"নীলিমা, নিয়তির নির্মম নিষ্ঠুর নিরবচ্ছিন্ন নির্যাতন নিয়ে নিরবে নয়ন নীরে নিশি আর কত কাটাইব?"
"যতদিন পৃর্ণ মিলন না হইবে।"- নীলিমা বলিল।
"সেই মিলনের অপেক্ষায় থাকিয়া তুমি যে নিঃশেষ হইয়া যাইবে নীলিমা।"
শান্তি নয়ন দুটি তুলিয়া নির্মল ভঙ্গিতে নীলিমা কহিল- " নিঃশেষ যাহা হইবার তাহা আমারও নয় তোমারও নহে। হয়তো অন্য কাহারো। যাহা তোমার এবং আমার তাহা তো নিঃশেষ হইবার নয়, অসীম!" কথাগুলো কহিতে কহিতে নীলিমা বাষ্পরুদ্ধ কান্নায় ভাঙ্গিয়া পড়িল। অসীম খাটিয়ার কিনার হইতে উঠিয়া গভীর আবেগে নীলিমার মাথা নিজের বুকের মাঝে টানিয়া লইল। তাহার হাতের ছোঁয়ায় নীলিমার দৃষ্টি কাড়িবার মত দীঘল কালো করবী বন্ধন মুক্ত হইয়া কটিদেশ স্পর্শ করিয়া সর্পিল গাতিতে নিন্মে নামিয়া গেল। চোখের জলে অসীমের বুকের বসন ভিজিয়া উঠিল। অসীম নীলিমার মাথা তাহার বুকের সাথে সজোরে চাপিয়া ধরিয়া মনে মনে ভাবিতে লাগিল বিধাতা যদি এমনি ভাবে সারাটা জনম অতিবাহিত করিবার সুযোগ দিত। মুখে বলিল- "কাঁদ নীলিমা কাঁদ। সমস্ত অনিয়ম, অত্যাচার, অদিন, অনাচারের অনুচ্ছেদ তোমার অনিবার আঁখি জলে ধূয়ে মূছে শেষ হয়ে যাক।" একান্ত সুখের আবেশে দুজন দুজনের বুকে কতটা বিমুতৃ সময় কাটালো

Friday, September 14, 2007

বিরহ পর্ব-১

আজ ১৫ ই সেপ্টেম্বর ২০০৭ ইং। তৃতীয় রামাদান। বুকের যন্ত্রনা থেকে উপাদান সংগ্রহ করে কিছু লেখার ইচ্ছা নিয়ে কী-বোর্ড টেনে বসেছিলাম । কিন্তু কিছুই লিখতে পারছিনা কেন?

Thursday, June 21, 2007

নারী

ইদানিং তোমার কর্মকান্ড দেখে নজরুলের সেই বিখ্যাত কবিতার কথাই মনে পড়ে যায়।
আমি নিজের ইচ্ছা মত সাজিয়ে নিয়েছি কবিতার চরণ ক'টি তোমারই কাজের রং দিয়ে।


"এরা নারী এরা দেবী
ইহাদের চিন কি সুজন
একেরে বসিয়ে রেখে
গৃহের নিজন কোণে
অপরের তুষ্ট করে মন।"